1. [email protected] : admi2019 :
| বঙ্গাব্দ

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভূমি জরিপে ওয়াকফ সম্পত্তি সুরক্ষায় সরকারের কঠোর নির্দেশ

রিপোর্টারের নামঃ মোঃ রাসেদুজ্জামান শুভ
  • আপডেট টাইমঃ 01-03-2026 ইং
  • 16100 বার পঠিত
ad728

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভূমি জরিপে ওয়াকফ সম্পত্তি সুরক্ষায় সরকারের কঠোর নির্দেশ


মোঃ রাসেদুজ্জামান শুভ || স্টাফ রিপোর্টার


বাংলাদেশের লাখ লাখ একর ওয়াকফ সম্পত্তি দখলমুক্ত ও সুরক্ষিত রাখতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয় নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। সবচেয়ে সাম্প্রতিক পদক্ষেপ হিসেবে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জারি করা এক নোটিশে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—চলমান ভূমি জরিপের সময় কোনো ওয়াকফ সম্পত্তি যেন ভুলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য কারও নামে রেকর্ড না হয়। সব জমি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ওয়াকফ এস্টেটের নামে রেকর্ড করতে হবে।


এই নির্দেশ জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ভূমি), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং জরিপ টিমের সব সদস্যকে দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—দীর্ঘদিনের দখল ও ভুল রেকর্ডের সুযোগ বন্ধ করে ওয়াকফ সম্পত্তির আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা। নোটিশটি ওয়াকফ প্রশাসকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (waqf.gov.bd) ‘নতুন’ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।


২০২৫-এর বড় অভিযান: বেহাত জমি উদ্ধারে ধর্ম উপদেষ্টার নেতৃত্ব


গত বছর আগস্ট থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. এ এফ এম খালিদ হোসেনের সরাসরি নেতৃত্বে সারাদেশে বেহাত ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। প্রথম ধাপে নওগাঁয় ৫২ বিঘা জমি উদ্ধার হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম, যশোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান চলে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও র‌্যাবের সহায়তায় এই অভিযান এখনও চলমান।


উপদেষ্টা সে সময় বলেছিলেন, “রাজনৈতিক চাপমুক্ত পরিবেশে এবার সত্যিকারের উদ্ধার সম্ভব।” বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ৬ আগস্ট ২০২৫-এর সাক্ষাৎকারে এসব কথা উঠে আসে।


ডিজিটালায়নের অগ্রগতি


২০২২ সাল থেকে শুরু হয়েছে অনলাইন ওয়াকফ সম্পত্তি তালিকাভুক্তিকরণ ও কন্ট্রিবিউশন পরিশোধ। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উপদেষ্টা ঘোষণা করেন—সব ওয়াকফ এস্টেট ডিজিটালাইজড করা হবে, যাতে দখল আর সহজ না হয়। মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়নের সময়ও ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়কে পুরোপুরি ডিজিটাল করার কথা বলা হয়।


বর্তমানে ওয়াকফ অধ্যাদেশ ১৯৬২ (২০১৩ সংশোধিত) অনুসারে প্রায় ২২ হাজার নিবন্ধিত এস্টেটের অধীনে ৪ লাখ ২৪ হাজার একরেরও বেশি জমি রয়েছে। ২০১৪ সালের হিসাবে প্রায় ৮৫ হাজার একর বেহাত ছিল—যার বড় অংশই উদ্ধারের লক্ষ্য।


আইনি সুবিধা ও অন্যান্য পদক্ষেপ


হাইকোর্টে ওয়াকফ মামলার জন্য আলাদা বেঞ্চ গঠন, মোতাওয়াল্লী নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সিটিজেন চার্টার ও অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা—এসব নিয়মিত চালু রয়েছে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728